সোমবার, ২২ Jun ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন

News Headline :
পাবনায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৫ টি ঘর বিক্রির অভিযোগ পরিত্যক্ত ঘরে চলছে জুয়া-মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড  রাজশাহীর বিনোদপুরে দুই রেস্তোরাঁয় হামলা, বিস্ফোরণ: দুই মামলায় জামায়াত নেতা-সহ ৩০ জন আসামী নগরীর মেহেরচন্ডী এলাকায় বাবাকে হত্যা করে পালালো রাবি শিক্ষার্থী কিশোরগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন অনাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের নওগাঁর বদলগাছী হাট ও বাজার প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে, সরকারি রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ ধূমপায়ীদের সরকারি চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণার দাবি বদলগাছীতে কৃষি অফিসের নীরবতায় থামছে না সার পাচার ডিলারের প্রতিনিধি আটক পাবনা ঈশ্বরদীতে এএসআই সুজাউল হত্যা মামলার পলাতক আসামি অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেফতার পাবনায় শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমকামির সংখ্যা ১ হাজার ৬শ বাড়ছে এইডস

কিশোরগঞ্জে মানবেতর জীবনযাপন অনাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধ দুর্গাচরণের

জমিজমা না থাকায় দীর্ঘদিন আগে সেচ খালের ধারে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস শুরু করেন দুর্গাচরণ। একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালালেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না।

Reading Time: 2 minutes

নাজমুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ , নীলফামারী :
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের আবদারিয়া গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ দুর্গাচরণ রায় (৬৭) মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য, অনাহার-অর্ধাহার, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং মাথার ওপর ভেঙে পড়া জীর্ণ ঘর নিয়ে প্রতিদিনই বেঁচে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজস্ব কোনো জমিজমা না থাকায় দীর্ঘদিন আগে সেচ খালের ধারে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস শুরু করেন দুর্গাচরণ। একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালালেও বয়স ও অসুস্থতার কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। প্রায় ১০ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। একমাত্র ছেলে বিয়ে করে আলাদা বসবাস করায় বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ একাকী জীবনযাপন করছেন।
মাথায় বড় আকারের টিউমারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত দুর্গাচরণ রায়ের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। ফলে প্রতিদিন খাবার জোগাড় করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় প্রতিবেশীদের সহায়তায় একবেলা খাবার মিললেও অধিকাংশ দিনই তাকে অনাহার বা অর্ধাহারে কাটাতে হয়।
দুর্গাচরণের বসবাসের ঘরটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙাচোরা টিন, পলিথিন, পুরোনো কাপড় ও বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী দিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা ঘরটি ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে ঘরের ভেতর পানি জমে যায়। শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার মধ্যে দুর্বিষহ সময় কাটাতে হয় তাকে।
দুর্গাচরণ রায় বলেন, “আমি খুবই অসহায় মানুষ। বয়সের কারণে কাজ করতে পারি না। পেটে ভাত জোটে না। প্রতিবেশীরা যা দেয় তাই খাই। না দিলে অনাহারে থাকতে হয়। সরকারি কোনো সহায়তাও পাইনি। বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করেও কোনো সুবিধা পাইনি।”
তিনি আরও বলেন, “ঝড়-বৃষ্টির সময় ঘরে থাকা যায় না। কাপড় আর পলিথিন মাথায় দিয়ে কোনোমতে বসে থাকি। কোনো দয়ালু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আমার থাকার জায়গা ও খাবারের ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে জীবনের শেষ সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”
স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যুগেও দুর্গাচরণের মতো একজন বৃদ্ধের এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত তার জন্য সরকারি সহায়তা, বয়স্ক ভাতা, খাদ্য সহায়তা এবং নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে অসহায় বৃদ্ধ দুর্গাচরণের জীবনযাত্রার কিছুটা হলেও উন্নতি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Design & Developed BY Hostitbd.Com